,BISSHOSONGBAD, Bangla, বিশ্ব সংবাদ, 24 news
প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন। তবে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেওয়া চিঠিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ নির্দেশনা দিয়েছে।
চিঠিতে গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারা ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত বা সচেতন করতে পারবেন। তবে তিনি হ্যাঁ বা না এর পক্ষে ভোট দিতে জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান করতে পারবেন না।
কেননা, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারা এবং আরপিওর ৮৬ ধারা অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হবে।
সরকার ইতোমধ্যেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও প্রচারে অংশ নিচ্ছে। একটি পক্ষ নিয়ে প্রচার চালানোর সুযোগ আছে কি না, এ প্রশ্ন বেশ কিছুদিন ধরে আলোচিত ছিল।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তার সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করলে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন। গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারায় আরপিও অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা আছে।
পোস্টাল ব্যালটে প্রার্থী অন্তর্ভুক্তির শেষ সময় ৮ ফেব্রুয়ারি : এদিকে ইসিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদালত যদি কারও প্রার্থিতা বহাল বা পুনর্বহাল করেন, তাহলে সেই প্রার্থীদের পোস্টাল ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। তবে ৮ ফেব্রুয়ারির পর কারও প্রার্থিতা পুনর্বহাল হলে সে ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে না। ব্যালট ছাপানো, পাঠানো ও ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সময় না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনি ব্যানারের বিষয়ে আচরণবিধির ব্যাখ্যা দিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যানারের নির্ধারিত আয়তন ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। ব্যানার অনুভূমিক না উল্লম্ব এ নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে আয়তনের মধ্যেই ব্যানারকে বিবেচনা করা হবে। সাধারণ ব্যানার সাদা-কালো হওয়ার কথা। রঙিন ব্যানার বা পিভিসি ব্যবহৃত হলে তা আচরণবিধির ব্যত্যয় হিসাবে গণ্য হবে এবং সে ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেবেন। তবে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে রঙিন প্রচারণার অনুমোদন রয়েছে।
পোস্টার না ছাপাতে প্রেসকে নির্দেশ : দেশের প্রিন্টিং প্রেসগুলোকে কোনো পোস্টার না ছাপানোর নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা কার্যক্রম চলমান আছে।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার বিধি-৭ এ বলা আছে, নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। ওই চিঠিতে নির্বাচনি পোস্টার মুদ্রণ না করার জন্য প্রিন্টিং প্রেসকে নির্দেশ দিতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রম অনুরোধ জানানো হয়।